বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

শ্রীলঙ্কার উপকূলে ডুবেছে ইরানের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ

শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবতে শুরু করলে দেশটির নৌবাহিনী অন্তত ৩০ জন সেনাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। 

বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি জাহাজটি থেকে জরুরি বিপৎসংকেত বা ‘ডিস্ট্রেস কল’ পাওয়ার পরপরই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী একটি উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় প্রেরণ করে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বেশ কিছু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সেদেশের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ১৮০ জন ক্রু বহনকারী ওই যুদ্ধজাহাজটির আহত নৌসেনাদের উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে আধুনিক এই যুদ্ধজাহাজটি সমুদ্রের মাঝখানে ডুবতে শুরু করল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শ্রীলঙ্কা সরকার যথাযথ আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্ঘটনাকবলিত এই জাহাজটি ইরানের নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী ফ্রিগেট ‘আইরিস দেনা’। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর গলের কাছাকাছি অবস্থানকালে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ে এবং সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইরানি নৌবাহিনীর অন্যতম গর্ব হিসেবে বিবেচিত এই ফ্রিগেটটি কেন ডুবতে শুরু করল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ একে কারিগরি ত্রুটি হিসেবে দেখলেও, চলমান যুদ্ধের আবহে কোনো চোরাগোপ্তা হামলা বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া নৌসেনাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ বাকি সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাহাজটির বর্তমান অবস্থান এবং সেটি পুরোপুরি ডুবে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *