সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাতভর ইরানের ব্যাপক হামলা, কোন দিকে মোড় নিচ্ছে যুদ্ধ?

ইরান যুদ্ধ সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে গড়িয়েছে। এর আগে রোববার রাতভর সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান ব্যাপক অঅকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সোমবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চালানো এই সুসংগঠিত আক্রমণে পুরো অঞ্চলটি এখন এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ও প্রকাশ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে।
 
আল জাজিরা বলছে, ইরানি বাহিনী নতুন করে কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে। হামলার শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই দোহার আকাশে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাল্টাপাল্টি আঘাত হানলে পুরো আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে।
 
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত সফলভাবে এই বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি প্রতিহত করেছে। প্রায় ১৫ মিনিটের এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হুমকির মাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনা হলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি।
 
কাতারের পাশাপাশি অন্য আরব দেশগুলোতেও ইরান ব্যাপক আকারে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী মানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় সিতরা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন।
 
বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের সবাই বাহরাইনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী রয়েছে। তার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সি একজনের বয়স মাত্র দুই মাস।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন শিশু রয়েছে, যাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটির  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের দিক থেকে আসা এসব আগ্রাসন মোকাবিলায় বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
 
 
বিশেষ করে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ স্থাপনার ওপর পড়লে সেখানে বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
 
অন্যদিকে সোমবার সৌদি আরবও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরবের বিশাল শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ড্রোন হামলার ব্যর্থ করার দাবি করেছে।
 
এছাড়া রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সৌদি আরবের একটি আবাসিক ভবনে মিসাইলের আঘাতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অপরজন ভারতীয়।
 
এদিকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে সৌদি আরব। রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানই এর ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে।
 
সোমবার (৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের বিশাল শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ড্রোন হামলার পর রিয়াদ তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে এবং অন্যান্য উপসাগরীয়, আরব এবং ইসলামী দেশগুলোতে ইরানের ‘জঘন্য’ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বিমানবন্দর, তেল স্থাপনাসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার হুমকি ছাড়া আর কিছুই নির্দেশ করে না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *