বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ডলারের দাম বেড়েছে

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর ডলারের দর সামান্য বাড়ল। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন দেশে ডলারের দর বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না খাতসংশ্লিষ্টরা।

গত মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দরে ডলার কিনছে ব্যাংকগুলো। এর ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়।

এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম নিত ব্যাংকগুলো।বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুধবার এই দর অব্যহত থাকে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বুধবার নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা দরে।

আমদানি-রপ্তানিতেও ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৯৯ পয়সা।আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সুযোগ নিচ্ছে। হঠাৎ করে আমদানিতে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এখন ভোক্তাপর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।ব্যাংকগুলো জানায়, যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে ১২২ টাকা দরে ডলার কেনা যেত। সেটা বেড়ে এখন ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রার হারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেখানেও ডলারের দাম ২৫ পয়সা বেড়েছে।

৩ মার্চ ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রাবিনিময় হারে দেখা যায়, প্রতি ডলারের যাচিত মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা। নিলাম হয়েছে ১২২ টাকা ৬৮ পয়সায়। গড় মূল দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৬৯ পয়সা।ব্যাংক সূত্র জানায়, ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি বাড়বে না, এমন বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দাম এখনো ১২৩ টাকার ওপরে ওঠেনি। তবে আমদানি দায় মেটানোর চাপ ও সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়বেই। তখন রিজার্ভ থেকেও ডলার–সহায়তা দিতে হবে। তাই ভালো হয় ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করে দিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।

২০২১ সালের আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকায় উঠে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবাহ ভালো থাকায় ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ডলারের দর বাড়তে শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *