মনে আছে জুলাই আন্দোলনের সেই দিনগুলোর কথা? ইনবক্সে বা ফোনে টুং করে মেসেজ আসত- “পোস্ট ডিলিট কর, না হলে কিন্তু সমস্যা হবে!” সেই একই ভাইব এখন বিশ্ব রাজনীতিতে। তবে এবার ইনবক্সে মেসেজ নয়, সরাসরি হোয়াইট হাউসের লন থেকে আঙুল উঁচিয়ে চীনকে আলটিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার সাফ কথা, “ইরানে কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা খেলনাপাতি পাঠানো যাবে না। পাঠালে কিন্তু বেইজিংয়ের কপালে দুঃখ আছে।”
সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইন যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করলেন, “চীন কি আসলেই ইরানে পার্সেল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে?” ট্রাম্প তখন অনেকটা সেই পাড়ার প্রভাবশালী বড় ভাইয়ের মতো উত্তর দিলেন। তিনি বলেন, “চীন যদি এটা করে, তবে তাদের বড় সমস্যায় পড়তে হবে। অলরাইট?”
অর্থাৎ, কোনো তর্ক নেই, কোনো আপিল নেই—সরাসরি ‘সমস্যা হবে’ ব্র্যান্ডের হুমকি!
জুলাইয়ের সময় যেমন কোনো যৌক্তিক পোস্ট দিলেই ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’র ভয় দেখানো হতো, ট্রাম্পও এখন গোয়েন্দা তথ্যের দোহাই দিয়ে চীনকে ‘অফলাইন’ করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। সিএনএন বলছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে পারে।
ইরান নাকি যুদ্ধবিরতির ফাঁকে বিদেশি বন্ধুদের দিয়ে নিজের ঘর গোছাতে চাইছে। কিন্তু ট্রাম্প যেন সেই ফেসবুক মডারেটর, যিনি কোনোভাবেই এই ‘অস্ত্রের পোস্ট’ টাইমলাইনে দেখতে রাজি নন।
ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এ নিয়ে ফোনালাপ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। তবে আগামী মাসে তাদের সরাসরি দেখা হওয়ার কথা। কূটনৈতিক মহলে হাসিঠাট্টা চলছে যে, বৈঠকে হয়তো ট্রাম্প সরাসরি শি-কে বলবেন, “শি ভাই, ইরানে অস্ত্র পাঠানোর ফাইলটা ডিলিট করেন, না হলে কিন্তু আমাদের বাণিজ্য যুদ্ধে আপনার ‘আইডি’ মানে অর্থনীতি ডিজেবল করে দেব!”
জুলাইয়ের সেই ছোটখাটো হুমকির দিন শেষ, এখন চলছে গ্লোবাল লেভেলের ‘সমস্যা হবে’ থিওরি। চীন এখন সেই ফাইল ‘রিমুভ’ করে কি না, না কি ট্রাম্পের হুমকিকে ‘স্প্যাম’ ফোল্ডারে পাঠিয়ে দেয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়!








