পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছেন। গত সপ্তাহে তিনি তেহরানে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নতুন আলোচনার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে মূল লক্ষ্য—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ ঠেকানো। এর আগে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে উত্তেজনা আরও বাড়ান, যদিও তিনি মুনিরের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই সংকটে একটি “বিশ্বস্ত বার্তাবাহক” হিসেবে কাজ করছে। দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটির চালিকাশক্তি মূলত মুনির নিজেই; বেসামরিক সরকার এখানে তুলনামূলকভাবে গৌণ ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে, লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষক অবিনাশ পালিওয়াল মনে করেন, পাকিস্তানের এই ব্যক্তিনির্ভর কূটনীতি দেশটিকে কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে তিনি এটাও বলেন যে, এটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির প্রচেষ্টা নয়; বরং সরকার ও সামরিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
মুনিরের এই উত্থান সাম্প্রতিক। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু গত দেড় বছরে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং ওয়াশিংটন, তেহরান ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মধ্যস্থতা সফল হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানও অনেক শক্তিশালী হবে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, চলমান এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে—যেখানে পাকিস্তান নিজেকে একটি প্রভাবশালী বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।








