দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও গতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম। দেড় বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশই ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর পথে এগোচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা চালু করেছে। অন্যদিকে ভারত সরকারও পর্যায়ক্রমে তাদের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফরে ভিসা সহজীকরণকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ প্রক্রিয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে নিউদিল্লীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের ভিসা কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি চালু রয়েছে। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত ডিসেম্বরের সাময়িক স্থগিতাদেশের পর ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে ব্যবসা, চিকিৎসা, পর্যটন ও পারিবারিক কারণে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ওম বিরলার নেতৃত্বে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে। দলে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ দেখা যায়।
ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা কার্যক্রম ব্যাহত হলেও পুরোপুরি কখনো বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে সীমিত আকারে ভিসা দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম চালুর দিকে এগোচ্ছে দুই দেশ।








