লেবাননে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবারও ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হামলার পর বহু এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইর এবং এর আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। টাইরের পাশাপাশি বুদইয়াস, নাবাতিয়েহ, বিনতে জবেইল ও সাইদার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে সাকসাকিয়েহ এলাকায়। সেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে আশ্রয় দেওয়া একটি ভবনে হামলা চালানো হলে অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া সাদিয়াত, নাহরাইন, হাবুশ ও মেফদুন এলাকাতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলার মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে বিভিন্ন হাসপাতাল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। আহতদের অনেককে আশপাশের শহরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, কয়েকটি এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ইসরাইলি হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ সীমান্তজুড়ে ইসরাইলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তারা বলছে, সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা ঠেকাতেই এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন বিস্ফোরণে তাদের তিন সেনা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করেছে তেল আবিব। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষকে সংঘাত বন্ধে সম্মত করলেও বাস্তবে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও একাধিকবার হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। লেবানন সফরকালে ইইউ’র সংকট ব্যবস্থাপনা প্রধান হাদজা লাহবিব হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রস্তুত থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
এর মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠকের দ্বিতীয় দফা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বৈরুত স্পষ্ট জানিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে এবং যেকোনো সময় সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।








