পরিবারের আর্থিক সংকট ঘোচাতে বড় অঙ্কের ঋণ করে লেবাননে পাড়ি দিয়েছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম (৪৫)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করে সংসারের হাল ধরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই আড়াই মাসের মাথায় তার জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটে ড্রোন হামলায়।
গত সোমবার (১২ মে) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। সেখানে একটি ফলের বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন শফিকুল।
শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে। পরিবার জানায়, প্রতিবেশী এক প্রবাসীর মাধ্যমে তিনি মাত্র আড়াই মাস আগে লেবাননে যান। বিদেশে যাওয়ার পেছনে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ হয়, যার বড় অংশই ছিল ঋণ।
একই ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তিনি আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (৪০)। দুজনই একই এলাকায় বসবাস ও কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
শফিকুলের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। স্ত্রী রুমা খাতুন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তিনি লাশ হয়ে ফিরবেন। এই ঋণ আমি কীভাবে শোধ করব, সন্তানদের কীভাবে মানুষ করব? তিনি সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শফিকুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই চলত সংসার। বৃদ্ধ বাবা আফসার আলী জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গরু বিক্রি, এনজিও ঋণ এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে। এখন সবই অনিশ্চয়তার মুখে।
স্থানীয়রা বলছেন, শফিকুল ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ। সংসারের কষ্ট ঘোচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে তাদের সহায়তার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।








