রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির সন্ধান পেয়েছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন আগামী শনিবার (৩০ মে) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। এ ঘটনায় পরিবারগুলোতে নেমে আসে শোকের ছায়া, পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও শুরু হয় প্রশ্ন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা এবং ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে ওয়ার্ডের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় একজন মা কর্তব্যরত নার্সকে সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। পরে নার্স প্রায় এক ঘণ্টার মতো এসি বন্ধ রাখেন।
তবে কিছু সময় পর ওয়ার্ডে গরম অনুভূত হলে আবার এসি চালু করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত সকালে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ওয়ার্ডের তাপমাত্রা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেই নবজাতকদের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে মৃত শিশুদের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, দায়িত্বশীল চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথ নজরদারির অভাব এবং ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদফতর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।







