জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় কোনো পরিবর্তনের পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের ওপরই আস্থা রেখেছে বিএনপি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল মোনায়েম (মুন্না) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (নয়ন)। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ঘোষিত আংশিক কমিটিতেও তারা একই দায়িত্বে ছিলেন। ফলে যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
বর্তমানে পবিত্র হজ পালন উপলক্ষে সৌদি আরবে অবস্থানরত নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম দলের আস্থার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে যুবদল কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কমিটিতে রেজাউল কবীর (পল) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং মো. কামরুজ্জামান জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিল্লাল হোসেন তারেককে রাখা হয়েছে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে।
সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন কমিটিতে ২৯ জন সহসভাপতি, ২৯ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২৩ জন সহসাধারণ সম্পাদক, ১২ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৫ জন আইনবিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ১১ জনকে, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে সহসাধারণ সম্পাদকের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
কমিটিতে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আবু সাঈদ আহমেদ ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রহিম উদ্দিন সহসভাপতি হয়েছেন। একইভাবে সৌদি আরবপ্রবাসী হারুন অর রশীদ (হিরো) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন।
বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদেও ব্যাপক বণ্টন করা হয়েছে। প্রচার, সাহিত্য ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, কৃষি, সমাজকল্যাণ, শ্রম, শিল্প, যোগাযোগ, ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্ম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক দায়িত্বে নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিকবিষয়ক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে খায়রুজ্জামান লিঙ্কনকে সহসভাপতির পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। একই বিভাগের দায়িত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদা পেয়েছেন এ আর মামুন খান ও মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ।
এ ছাড়া মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মাহবুবুল আলম আকতার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আরাফাত বিল্লাহ খান এবং পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে হেদায়েত হোসেন ভূঁইয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নবগঠিত এই কমিটি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও তৃণমূলমুখী করতে কাজ করবে। বিশেষ করে সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মীসংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাইয়ে ঘোষিত ছয় সদস্যের আংশিক কমিটির ভিত্তিতেই এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে যুবদলের নেতৃত্বে নতুন মুখের চেয়ে অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখার বার্তা দিল বিএনপি।








