বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

গরমে পুড়ছে দেশ, আর কদিন থাকবে

জুনের শুরুতেই দেশের বড় অংশ তীব্র গরমের কবলে পড়েছে। মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে একযোগে ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিস্তৃত তাপপ্রবাহের ঘটনা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশের পাঁচ বিভাগ, অর্থাৎ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরের প্রায় সব জেলাই তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল। এর বাইরে চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৪৮টি জেলায় এই পরিস্থিতি বিরাজ করেছে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, চলতি বছরে এত বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার নজির নেই। তিনি বলেন, জুন মাসজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মাসে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা আপাতত গরম থেকে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে না। বৃহস্পতিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। গত বছর এটি প্রবেশ করেছিল ২৫ মে, আর দীর্ঘমেয়াদি গড় অনুযায়ী ৩১ মে নাগাদ মৌসুমি বায়ু দেশে পৌঁছায়। তবে এবার জুনের শুরুতেও এর কোনো স্পষ্ট উপস্থিতি দেখা যায়নি।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তার মতে, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পরও সারা দেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কিছুটা কমে এলেও গরমের অনুভূতি তাৎক্ষণিকভাবে কমবে না। কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের কাছে আবহাওয়া আরও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর গরমের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় জুনের শুরুতে এসে পরিস্থিতি উল্টো চিত্র ধারণ করেছে। ফলে দেশজুড়ে এখন বৃষ্টির অপেক্ষার পাশাপাশি স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ারও প্রতীক্ষা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *