ইরানকে রাশিয়া সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্য সামনে এলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে এখনো বড় ধরনের হুমকি হিসেবে প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন না। বরং তিনি একাধিকবার বলেছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তিনি নিজেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে চান।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তেহরানের অর্থায়নে পরিচালিত সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করা। তার দাবি ছিল, এসব গোষ্ঠী অতীতে বহু মার্কিন সেনাকে হত্যা ও আহত করেছে।
কিন্তু রাশিয়া সেই ইরানকে সহায়তা করছে কি না, প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলেও তিনি প্রকাশ্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের একটি কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ”। তার ভাষ্য, দুই দেশই বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে এমন সহায়তা দিচ্ছে, যার ফলে তেহরান তার বর্তমান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
এর অল্প সময় পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে থাকা অবস্থায় একই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি কোনো মন্তব্য এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি লেখেন, তার বিশ্বাস রাশিয়া ও চীন ইরানের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। কারণ, দুই দেশের নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা তেহরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিছু সীমিত সহযোগিতা থাকতে পারে, তবে সেটি বড় পরিসরের নয়। তার ধারণা, রাশিয়া কিংবা চীন তাকে হতাশ করতে চাইবে না।
এদিকে মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। যদিও ক্রেমলিন বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
শুধু অস্ত্র নয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে। তার দাবি, ওই তথ্যের ভিত্তিতেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে আরও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে পেরেছে।
তবে এ অভিযোগের গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়েছেন ট্রাম্প। গত সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন তথ্য থাকলেও সেটি বাস্তবে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারত না। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি সত্য কি না, তা জানতে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন চলতি বছরের মার্চের শুরুতে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রথম জানায়, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকতে পারে। পরে নিউইয়র্ক টাইমসও একই ধরনের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়াকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, যাতে তারা ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অন্য ধরনের সহায়তা না দেয়।
তবে ট্রাম্প নিজে এখনো প্রকাশ্যে এতটা কঠোর অবস্থান নেননি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে নতুন করে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। এতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এরপরও ট্রাম্পের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগের প্রকাশ দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের একটি ঘটনার সঙ্গে মিল রাখে। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য রাশিয়া অর্থ পুরস্কার দিচ্ছে, এমন গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ এবং সম্ভাব্য ‘প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।








