বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

স্থানীয় সরকারে শূন্যতা কাটাতে ১০-১২ মাসে সব নির্বাচন, অক্টোবরে ইউপি ভোটের লক্ষ্য

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শূন্যতা দূর করতে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে ভোটযাত্রা শুরু হবে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে প্রথম ধাপের ইউপি ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় ধরা হয়েছে ১০ থেকে ১২ মাস।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরি করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এসব রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন শুরু হলে পরবর্তী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তার তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য পৃথক বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ স্তরেই নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। এ কারণে একযোগে সব নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্তকরণ এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২১ জুন। ওই দিন বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, কোনো পরিষদের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে ওই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য। বিশেষ করে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণসহ একাধিক প্রশাসনিক বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অধীনে থাকায় আলোচনা ছাড়া নির্বাচন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া সমীচীন নয়। তবে কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।

নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়নে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি থাকায় অতীতেও সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে প্রতিটি ধাপের নির্বাচন শেষে অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সব প্রাক্-প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *