নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কানে কামড়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর আহত ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন (৪৮) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টি কে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ করছিলেন। সোমবার বিকেলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে ফেরার সময় বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়।
সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরও ছয় থেকে সাতজন তাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন জানতে চান, তাকে না জানিয়ে কেন ওই এলাকায় ড্রেজার বসানো হয়েছে। এর জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তার গলা চেপে ধরে এক কানে কামড় দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, কান থেকে রক্তপাত শুরু হলে তাকে ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে তার কানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা ড. আবদুল মঈন খানের একটি কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত আছেন। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
এদিকে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








