বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

ইরানের ওপর ফের মার্কিন নৌ অবরোধ, মধ্যপ্রাচ্যে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক উড়োজাহাজ মোতায়েন

ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা (২০:০০ জিএমটি) থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাকে কেন্দ্র করে এ অবরোধ আবার কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনী অবরোধ কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ অভিযান পরিচালনা করছে। বাহিনীটি আরও বলেছে, তারা সর্বক্ষণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ে।

এরপর মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে জুন মাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে ওই সমঝোতার পরও হামলা-পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং বিচ্ছিন্নভাবে সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবার নৌ অবরোধ কার্যকরের সিদ্ধান্ত জানান। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার থেকে অবরোধ পুনরায় কার্যকর হলো।

শুধু অবরোধেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ওয়াশিংটন। টানা চতুর্থ রাতের মতো মঙ্গলবারও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই নতুন করে এসব সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলার দাবি করা হয়েছে। বুধবার ভোরে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব দাবির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *