ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে মার্কিন স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বা আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানের অবতরণে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাময়িক ও ব্যতিক্রমী নির্দেশনায় জানিয়েছে, বেন গুরিয়নে আর অতিরিক্ত মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান নামার অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভের দপ্তরের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বর্তমানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলো সরিয়ে না নিলে চলতি জুলাই মাসে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রীর নির্ধারিত বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বেশ কয়েকটি KC-135 Stratotanker বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোতায়েন করেছিল। এসব বিমান আকাশে সামরিক উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে বিপুল সংখ্যক সামরিক বিমান অবস্থান করায় বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর।
এদিকে জুলাই মাস ইসরায়েলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ততম সময় হওয়ায় যাত্রীচাপও বেড়েছে। পার্কিং স্পেসের সংকট এবং সম্ভাব্য হাজারো ফ্লাইট বিঘ্নের আশঙ্কায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ ২০টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অবস্থানের অনুমতি রাখা হয়েছে। এর বেশি কোনো মার্কিন সামরিক বিমান এ বিমানবন্দরে না নেমে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নির্ধারিত সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সমন্বয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বেন গুরিয়নের মতো কৌশলগত বিমানবন্দর ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার কারণে আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রশাসন বলছে, বেসামরিক বিমান চলাচল সচল রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।








