রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

সৌদির উদ্বেগের পরই ইরান হামলা স্থগিতের ঘোষণা, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কি কূটনৈতিক প্রভাব?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরবের ভূমিকা। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক আগে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার টেলিফোনে আলোচনা হয়। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে রিয়াদের কূটনৈতিক বার্তা কতটা প্রভাব ফেলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, শনিবার অনুষ্ঠিত ওই ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান সৌদি যুবরাজ। একই সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের দাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং ইরানে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বড় সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তেহরান সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কাই রিয়াদের উদ্বেগের মূল কারণ।

এর মধ্যেই শনিবার (১ আগস্ট) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘মূল কাঠামো’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে তিনি দ্রুত সেই চুক্তি চূড়ান্ত করার আহ্বানও জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের কথিত ‘পারমাণবিক হুমকি’ দূর হবে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে একই দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো হামলার জবাব ‘সমানুপাতিকভাবে’ দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে। তবে ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তে সৌদি আরবের উদ্বেগ কতটা ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি হোয়াইট হাউস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *