ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১ আগস্ট) সকালে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বাড়িয়েছে মস্কো। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিতস্কো জানান, রাজধানীতে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শহরজুড়ে ১০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্লিতস্কো জানান, শেভভেঙ্কিভস্কি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। এতে ভবনের ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, দারনিতস্কি জেলায় হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। অন্যদিকে সলোমিয়ানস্কি জেলায় দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। সেখানেও আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
হামলার প্রভাব কূটনৈতিক এলাকাতেও পড়েছে। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দূতাবাসের কাছাকাছি আঘাত হানে। এতে দূতাবাসের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
এর মাত্র দুই দিন আগে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই বৈঠকে তিনি ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেওয়ার অনুরোধ জানান। সেই বৈঠকের অল্প সময়ের মধ্যেই কিয়েভে এই বড় হামলার ঘটনা ঘটল।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রতিশোধমূলক হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত সংঘাত বন্ধ হওয়ার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।








