বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ইরানে আরও বড় আঘাত এখনো বাকি, আশা করি প্রয়োজন হবে না: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি সমঝোতার পথ থেকে সরে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান আবার পিছু হটলে তাদের খুব কঠিন আঘাতের মুখে পড়তে হবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলাই ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করেছে। যদিও তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে এর চেয়েও বড় হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তবে সেটির প্রয়োজন না পড়ুক, এটাই তিনি চান।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ভালো আলোচনা করছি। তারা বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না, কিন্তু হ্যাঁ, এটা কিছুটা উদ্বেগজনক।’

তিনি আরও বলেন, মূল বিষয় হলো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ইরান একটি চুক্তি করতে চায় বলেও তার দাবি। তবে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি ‘খুব খারাপ’ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রণালিটি খুব শিগগিরই খুলে যাবে। তা না হলে ইরানকে কঠোর আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত প্রণালিও খুলে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। সেই সময় ইরান যোগাযোগ করে আলোচনার অনুরোধ জানায়। এরপর তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরান ও ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তাদের আশা, চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আবার শুরু হতে পারে।

রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা এগিয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে।

অন্যদিকে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে, যা চলমান সংঘাতকে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

ইরান জাহাজ চলাচলে কোনো ফি আরোপ করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, সম্ভাব্য ব্যবস্থাটি হবে ‘স্বাধীন নৌ-চলাচলের’ ভিত্তিতে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো বা শর্ত সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *