মালয়েশিয়া প্রবাসীর পাঠানো প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। তাদের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকারের ৯৫ গ্রাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আব্দুর রউফ (৪০) ও আল আমিন শান্ত (২৭)। রউফ বিমানবন্দর থানার একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং শান্ত বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার তাদের এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তবে যেহেতু তারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত, সেহেতু তাদের ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় আমার কাছে মুখ্য নয়।’
বিয়ের জন্য পাঠানো স্বর্ণ ছিনতাই
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর রায়পুরার মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. কাউসার তার ভাইয়ের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। পরিবারের ব্যবহার ও বোনের বিয়ের কথা মাথায় রেখেই স্বর্ণগুলো পাঠানো হয়েছিল।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সুমন ও তার বন্ধু রোহান চৌধুরী ওই স্বর্ণালংকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করেন। পরে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে করে কাওলা এলাকায় যাওয়ার পর গাড়ি থেকে নামার সময় কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মামলায় চার আসামি
ঘটনার পর বিমানবন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় আব্দুর রউফ, রিপন (২৭), আল আমিন শান্ত ও রুবেলকে (৩২) আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার রউফ ও শান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই ৯৫ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। বাকি স্বর্ণ ও মামলার অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, মামলার চার আসামিই বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রউফ বিমানবন্দর থানার একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, আল আমিন শান্ত বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং রিপন একই থানার ছাত্রদলের সভাপতি। অন্য আসামি রুবেলও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।








