জীবিকার তাগিদে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার আব্দুল জলিল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই কাজ করে আসছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এই প্রবাসী। তবে শুক্রবার রাতে ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানী মালেতে থাকা আব্দুল জলিল রাতে ঘুমানোর পর আর জেগে ওঠেননি। পরে রুমমেটরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দেড় বছর আগে মালদ্বীপে যান জলিল। দেশটিতে যাওয়ার পর প্রথম তিন মাস বৈধভাবে অবস্থান করলেও পরে তার বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
রাতে ঘুম, সকালে নিথর
রুমমেটদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে শুক্রবার রাতে বাসায় ফেরেন আব্দুল জলিল। পরে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে রুমমেটরা কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
পরে দ্রুত তাকে মালেতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মরদেহ দেশে ফেরাতে সহযোগিতা চায় পরিবার
আব্দুল জলিলের নিকটাত্মীয় আব্দুর রহিম জানান, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণেই জীবিকার সন্ধানে জলিলকে বিদেশে যেতে হয়েছিল। তার মৃত্যুতে এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বজনরা জানান, আব্দুল জলিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, জলিলের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশন অবগত রয়েছে বলে হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।








