সকালে ঘরের দরজা খুলছিল না। বাইরে থেকে বারবার ডাকাডাকি করেও পাওয়া যাচ্ছিল না কোনো সাড়া। একপর্যায়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। এরপর ঘরের ভেতরে মিলল সাথী (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের বড় রসুলপুর জেলেপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাথীর স্বামী বিদেশে থাকেন বলে জানা গেছে।
সকালে ঘরের সামনে তৈরি হয় উদ্বেগ
পরিবার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে অন্যদিনের মতো খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান সাথী। রাতের পর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো কথা হয়নি।
রোববার সকালে গৃহস্থালির কাজে পানি আনতে বাইরে যাওয়ার সময় সাথীকে ডাকেন তার শাশুড়ি। কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হলেও বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয় পরিবারের। পরে শাশুড়ির চিৎকারে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে আসেন।
দরজা ভাঙতেই দেখা যায় ঝুলন্ত মরদেহ
প্রতিবেশীরা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় সাথীর মরদেহ দেখতে পান তারা।
পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। আত্রাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে।
পারিবারিক কলহের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ঘটনাটিকে আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কোনো কলহের জেরে সাথী এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটিই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফলে আপাতত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে, কী কারণে সাথীর মৃত্যু হলো এবং মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল। তদন্তের পরই এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলবে।








