আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটটি শেষ পর্যন্ত আর উপস্থাপন করেনি আবেদনকারীপক্ষ। পরে রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের কার্যতালিকায় রিটটি ১১৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন গত ১ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করেন। তাঁর পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী মো. নুরনবী বুলবুল ও মোহাম্মদ ইউনুছ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী প্রথম আলোকে বলেন, রিট আবেদনটি যথাযথভাবে হয়নি—এমন কথা জানিয়ে আবেদনকারীপক্ষ সেটি উপস্থাপন না করার সিদ্ধান্তের কথা আদালতকে জানায়। এরপর আদালত রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন।
যে প্রজ্ঞাপন নিয়ে রিট
২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আওতায় দলটির প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সম্মেলন আয়োজনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।
রিটে কী চাওয়া হয়েছিল
রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছিল।
একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়।
তবে আবেদনকারীপক্ষ রিটটি আর আদালতে উপস্থাপন না করায় এর ওপর কোনো রুল জারি হয়নি। ফলে প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে করা ওই রিটের বিচারিক পর্যালোচনাও আর এগোয়নি।








