অবৈধ অনলাইন জুয়া ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ২৪৪ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ। দেশটির অভিবাসন ব্যুরো জানিয়েছে, ২০২৬ সালে পিওজিওবিরোধী অভিযানের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিযান। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই চীনের নাগরিক।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনদানাও অঞ্চলের দুটি স্থাপনায় একযোগে অভিযান চালায় সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে অনলাইনভিত্তিক অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এসব বিদেশিকে আটক করা হয়।
ফিলিপাইনের অভিবাসন ব্যুরো শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, প্রথম স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ১১০ জন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ছিলেন কম্বোডিয়ার দুই নাগরিক এবং হংকংয়ের একজন নাগরিক।
অন্য একটি স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৩১ জনকে আটক করা হয়। তাদের বেশিরভাগই চীনা নাগরিক। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিকও ওই স্থাপনায় ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জব্দ করা হয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ও সিম
অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ধরনের সিম কার্ড।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, এসব সরঞ্জাম অবৈধ অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছিল। আটক বিদেশিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগেও তদন্ত চলছে।
যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অভিবাসন ব্যুরো।
অপরাধের আড়াল হিসেবে অনলাইন গেমিং
ফিলিপাইনে অনলাইন গেমিং প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। মানবপাচার, অর্থপাচার, অনলাইন প্রতারণা, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িত চক্রগুলো অবৈধ অনলাইন গেমিং প্রতিষ্ঠানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে, এমন অভিযোগের পর ২০২৪ সালে দেশটিতে পরিচালিত পিওজিও নিষিদ্ধ করে সরকার।
পিওজিও নিষিদ্ধ করার পরও বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক অভিযানের বিষয়ে ফিলিপাইনের অভিবাসন ব্যুরোর প্রধান জোয়েল ভিয়াদো বলেন, দেশটিতে অবস্থানের শর্ত ভঙ্গকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ফিলিপাইনকে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঘাঁটিতে পরিণত হতে না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অভিবাসন ব্যুরো জানিয়েছে, মিনদানাওয়ের দুটি স্থাপনায় পরিচালিত এই অভিযানকে ২০২৬ সালের পিওজিওবিরোধী সবচেয়ে বড় অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে আটকদের মধ্যে চীনা নাগরিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ বিষয়ে ম্যানিলায় চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা এএফপি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।








