মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও কর্মীদের হয়রানির অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে এসব এজেন্সি আপাতত বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
রোববার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, হাইকোর্টে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর করা রিটের পর লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, চেম্বার আদালতের আদেশে তা স্থগিত হয়ে গেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হলেও বিগত সরকারের সময়ে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সেখানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধও হয়ে যায়।
অতিরিক্ত অর্থ ও প্রতারণার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এক ধরনের কাজের কথা বলে অন্য কাজে পাঠানো, মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়। দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় করা মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ার পর ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ (সংশোধিত ২০২৩)-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেয়।
হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ, পরে চেম্বার আদালতে স্থগিত
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট পিটিশন করা হয়। প্রথমে একটি এজেন্সি এবং পরে আরও ১১টি এজেন্সি রিট করে। অর্থাৎ মোট ১২টি এজেন্সি হাইকোর্টে সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে।
হাইকোর্ট এসব রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রথম রিটের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব স্থগিত করেন। এরপর ৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অপর রিটের বিপরীতে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশও স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত।
স্বচ্ছ ও কম খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য
চেম্বার আদালতের এসব আদেশের ফলে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
সরকারের এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে তিনি বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং তুলনামূলক কম খরচে যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা নিরাপদে বিদেশে যেতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অতীতে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে যে অনিয়ম ও কর্মী হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
ফলে আদালতের সর্বশেষ আদেশের পর অভিযুক্ত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে।








