লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ ও প্রবেশ ভিসা স্থগিত থাকার মধ্যেই গত এক মাসে দেশটিতে যাওয়ার জন্য ৭১৫ বাংলাদেশি কর্মী জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র পেয়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, শ্রমবাজার বন্ধ থাকার সময়ে কীভাবে এত কর্মী বিদেশযাত্রার অনুমোদন পেলেন।
তবে বিএমইটি বলছে, এসব কর্মী নতুন করে ভিসা পাওয়া কেউ নন। লাওসের শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার আগেই যাদের ভিসা ইস্যু হয়েছিল, মূলত তাদেরই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমইটির বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, যাদের আগেই ভিসা ছিল, তাদের এটা অ্যাটাস্টেড ছিল। অর্থাৎ যারা বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই ভিসা পেয়েছিলেন, তাদেরকেই এই সময়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পেয়েছেন।
অন্যদিকে, লাওসে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশটির শ্রমবাজারে নিয়োগ, কাজের অনুমতিপত্র এবং প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লাওসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাওসে কাজের সুযোগ নিয়ে প্রচারিত তথ্যের বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরে আসে। এরপর দূতাবাস লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করে।
দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লাওস সরকার গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি কাজের অনুমতিপত্র ও প্রবেশ ভিসা (এলএ-বি২) ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে লাওসে যেতে আগ্রহীদের প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কোনো ধরনের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া ভিসা বা অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশযাত্রা না করার জন্যও জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, লাওসে চাকরি বা ভিসার কোনো প্রস্তাব পাওয়ার পর তা চূড়ান্তভাবে গ্রহণের আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তথ্যসূত্রের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
ফলে শ্রমবাজার বন্ধ থাকার সময়ে ছাড়পত্র পাওয়া ৭১৫ কর্মীর ক্ষেত্রে তারা নিষেধাজ্ঞার আগে ভিসা পেয়েছিলেন কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএমইটির বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার বন্ধ হওয়ার আগে ভিসা পাওয়া কর্মীদের ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াই ওই সংখ্যার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।








