দেশের বিমানবন্দরগুলোতে লাগেজ চুরি ও মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার অভিযোগ বন্ধে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপ যাত্রীদের সামনে লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকর নজরদারির দাবিও জানানো হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
নোটিশে সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় যাত্রী ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (পিআইএল) করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কার্গো হোল্ড থেকে ব্যাগেজ বেল্ট, সবই ক্যামেরার আওতায়
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামানোর পর তা ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা দিয়ে পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো, পুরো প্রক্রিয়াটিই উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
শুধু ক্যামেরা বসানো নয়, অ্যারাইভাল লাউঞ্জে বড় পর্দার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সরাসরি যাত্রীদের দেখানোর ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে। এতে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, কাস্টমস বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনো সদস্য তল্লাশির প্রয়োজনে যাত্রীর লাগেজ খুললে সেই তল্লাশি কার্যক্রমও ক্যামেরায় ধারণ করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সামনে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
‘ব্লাইন্ড স্পট’ কাজে লাগিয়ে চুরির অভিযোগ
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারির ঘাটতি এবং সিসিটিভির ‘ব্লাইন্ড স্পট’কে কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডারদের একটি অংশ লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছে।
কার্গো হোল্ড থেকে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় দেশি-বিদেশি যাত্রী, পর্যটক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর প্রভাব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিও
লাগেজ চুরির পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে লিগ্যাল নোটিশে। লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো চালুর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দুদকের কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে সততা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন।
যাদের কাছে নোটিশ
লিগ্যাল নোটিশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভির আওতায় আনা, লাগেজ তল্লাশিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যাত্রী, প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।








