মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

ইতালিতে কর্মী নিয়োগের বড় ঘোষণা, সুযোগ থাকছে বাংলাদেশীদের জন্যও!

ইতালিতে আগামী বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষি, পর্যটন, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক নিয়োগের এই বড় কর্মসূচিতে যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের জন্য এ কোটা নির্ধারণ করেছে ইতালি সরকার। বিদেশি নাগরিকদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির এই সরকারি কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমেই ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

কোন খাতে কত কর্মী
ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নির্ধারিত কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জন অমৌসুমি কাজে নেওয়া হবে। কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য সুযোগ থাকছে ৮৯ হাজার বিদেশি কর্মীর।

এ ছাড়া স্বনিয়োজিত কাজের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫০টি স্থান। অমৌসুমি কর্মীর মোট কোটার মধ্য থেকে ১৪ হাজার স্থান নির্ধারিত হয়েছে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য।

বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকরা সুযোগ পাবেন
ইতালির নির্ধারিত যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। একই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপালসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নামও রয়েছে।

অর্থাৎ নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব দেশের নাগরিকরা ইতালিতে কাজের জন্য ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

আবেদন কখন শুরু
২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ‘প্রিকম্পাইলেশন’ বা আবেদনপত্র আগে থেকে পূরণের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ প্রক্রিয়া শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায় এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।

তবে বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ নিয়মে কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটায় আবেদন করেন না। ইতালিতে অবস্থানরত নিয়োগকর্তা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর হয়ে কাজের অনুমোদন বা nulla osta পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।

অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

চার ধাপে ‘ক্লিক ডে’
২০২৭ সালের জন্য বিভিন্ন খাতে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মী

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মী

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি কর্মী

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাত

প্রতিটি ‘ক্লিক ডে’-তে আবেদন জমা দেওয়ার সময় ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টা। তবে নির্ধারিত কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মী
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০টি কোটা নির্ধারণ করেছে।

এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দালালের মাধ্যমে নয়, সরকারি প্রক্রিয়ায় আবেদন
ইতালিতে কাজের সুযোগের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতারণার আশঙ্কার কথাও মাথায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’র ক্ষেত্রে বৈধ নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধিই আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই ইতালিতে চাকরি বা ভিসা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে যাচাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় এবং nulla osta প্রকৃত কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *