রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

মালদ্বীপে প্রবাসীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন, একই কক্ষের দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন পলাতক থাকার দাবি পরিবারের

মালদ্বীপে মো. সজিবের (২৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর সময়, পরিস্থিতি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, সজিবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের পলাতক থাকার কারণ কিংবা সজিবের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি সজিবের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন তার স্বজনরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে দেশটির পুলিশ তার শোবার ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের ধারণা, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সজিবের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগের অন্যতম কারণ, তার সঙ্গে একই কক্ষে বসবাসরত দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের পলাতক থাকার খবর। নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ওই তিনজনের পরিচয়, তারা কখন থেকে নিখোঁজ বা পলাতক এবং মালদ্বীপের পুলিশ তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে সম্পর্কে পরিবারের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

ফলে সজিবের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মরদেহ উদ্ধারের আগে কী ঘটেছিল, মৃত্যুর সময় কক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান কী, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর ফোনে সজিবের মৃত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। পরে তারা জানতে পারেন, শোবার ঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

নিহত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। তার বাবা আবদুল খালেকের ভাষ্য, সজিব অবিবাহিত ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তার বড় ধরনের বিরোধের কথা পরিবারের জানা ছিল না।

পরিবারের কাছে সজিবের মৃত্যুর খবর পৌঁছালেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। একদিকে রয়েছে শোবার ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য, অন্যদিকে রয়েছে একই কক্ষে থাকা দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের পলাতক থাকার দাবি। এই দুই তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

স্বজনদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সজিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি মালদ্বীপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *