রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

আমিরাতে অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় প্রাণ গেল প্রবাসীর, এতিম হলো দুই কন্যা

জীবিকার তাগিদে দেশে ছুটি কাটিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮)। সেখানে একটি গ্রোসারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবাসে ফেরার এক মাসের মাথায় বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বাবাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু জাহেদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, পাশের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আবু জাহেদ। তবে অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ছুটি কাটিয়ে ফিরেছিলেন প্রবাসে
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে এসেছিলেন আবু জাহেদ। কয়েক মাস ছুটি কাটিয়ে জীবিকার প্রয়োজনে গত সেপ্টেম্বর মাসে আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে যান তিনি। শারজাহ এলাকায় একটি গ্রোসারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই প্রবাসী।

দেশে তার পরিবারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান, জেরিন আকতার (১০) ও আফরিন আকতার (৩)। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বন্ধুমহলে শোকের ছায়া
আবু জাহেদের বন্ধু মো. আবছার, আলমগীর হোসেন ও আবু হানিফ জানান, স্কুল ও কলেজজীবন থেকেই বন্ধুদের কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন জাহেদ। দেশে ছুটিতে এলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে বন্ধুমহলে শোক নেমে এসেছে।

পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন আবু জাহেদ। তিনি রাউজান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন রানার ছোট বোনের স্বামী।

তার মৃত্যুতে রাউজান প্রেস ক্লাব, রাউজান মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রবাসে পরিবারের সচ্ছলতার জন্য কাজ করতে যাওয়া আবু জাহেদের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার দুই কন্যাসন্তানকে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনা পরিবারটির জন্য গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *