রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

দুইবার টিকিট কেটেও সৌদি যাওয়া হয়নি হালিমের, ছুটি শেষ মোমতাজের

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রবাসী যাত্রীরা। কারও একাধিকবার টিকিট কেটেও যাত্রা করা হয়নি, আবার কারও ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে ফেরার নিশ্চয়তা নেই। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে হচ্ছে তাদের। এতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা, তৈরি হচ্ছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঝুঁকিও।

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা। তাদেরই একজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আব্দুল হালিম। রিয়াদে যাওয়ার জন্য রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার যাত্রার কথা ছিল। সে জন্য এক দিন আগেই ঢাকায় এসেছিলেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত যাত্রা করতে পারেননি হালিম। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তিনি জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরে এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে নতুন করে যাত্রার সময় জানানো হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়।

হতাশা প্রকাশ করে আব্দুল হালিম বলেন, এয়ারপোর্টে এসে জানতে পারলাম, ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছে, ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে। পরে জানিয়ে দেবে, কবে আবার যেতে পারব।

হালিমের ভোগান্তি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে যেতে পারেননি তিনি। সে সময় এয়ার অ্যারাবিয়ার টিকিট কেটেও যাত্রা বাতিল করতে হয়েছিল। পরে এজেন্সি থেকে নতুন টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু এবারও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তার সৌদি যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এর আগেও এয়ার অ্যারাবিয়া থেকে টিকিট কিনে এই যুদ্ধের কারণেই যেতে পারিনি। পরে এজেন্সি থেকে নতুন করে আবার টিকিট দিয়েছে। দুইবার টিকিট কেটেও যেতে পারিনি।

বিদায় জানাতে এসে ফ্লাইট স্থগিতের খবর
একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থেকে আসা তরিকুল ইসলাম। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার সৌদি আরবের দাম্মামে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে বিদায় জানাতে পরিবারের সদস্যরাও বিমানবন্দরে এসেছিলেন।

কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তরিকুলের ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে কখন তিনি গন্তব্যে যেতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তরিকুলের মতো যাত্রীদের ক্ষেত্রে শুধু যাত্রা পিছিয়ে যাওয়াই সমস্যা নয়; পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানাতে আসা, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর প্রস্তুতি এবং পরবর্তী যাত্রার সময় নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ছুটি শেষ, কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা
ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবে কর্মরত ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাসিন্দা মোমতাজ হোসেনের ওপরও। সৌদি আরবের দাম্মামের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন তিনি। তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে রোববার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তার।

সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মোমতাজ। সে অনুযায়ী দুপুর ২টার পরপরই বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।

মোমতাজের উদ্বেগের কারণ, তার ছুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিয়েও চিন্তিত তিনি। এর মধ্যে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

মোমতাজ হোসেন বলেন, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কোনো খবর আগে আমাদের জানানো হয়নি। ছুটিও শেষ। কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। এখন কীভাবে কী করব, মাথায় আসছে না।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব বিমান চলাচলে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এই ঘটনার পর সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে রিয়াদগামী সাতটি ফ্লাইট বাতিলের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি রিয়াদ ও দাম্মামগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের ছুটি শেষ, যাদের কর্মস্থলে নির্দিষ্ট সময়ে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিংবা যারা আগেও ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রা করতে পারেননি, তাদের উদ্বেগ বেশি।

আব্দুল হালিমের দুইবার টিকিট কেটেও যেতে না পারা, তরিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমানবন্দরে এসে ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি এবং মোমতাজ হোসেনের ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে ফিরতে না পারা, এই তিন অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব শুধু বিমানযাত্রায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে প্রবাসীদের চাকরি, ছুটি ও ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাবও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *