সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

প্রবাসীর জমি বিক্রি ঘিরে বিরোধ, আলোচনায় ডেকে এনে দুই ভাইয়ের ওপর হামলা; নিহত একজন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রির মধ্যস্থতা করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন জাহাঙ্গীর আলম (২৯)। গুরুতর আহত তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জমি বিক্রির আলোচনা থেকে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বড়গাছ গ্রামে একটি জমি বিক্রির আলোচনা শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়ায়। লন্ডনপ্রবাসী রিপন আহমেদের জমি বিক্রির মধ্যস্থতা করছিলেন স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্বজনেরা। সেই জমির ক্রেতা নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকে নেওয়া হয় জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন জাহাঙ্গীরও। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বড়গাছ গ্রামে। নিহত জাহাঙ্গীর ওই গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে।

যে জমি ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কমলগঞ্জের রামপাশা গ্রামের দুলা মাস্টারের ছেলে লন্ডনপ্রবাসী রিপন আহমেদের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। জমিটি বিক্রির মধ্যস্থতা করছিলেন জাহাঙ্গীর ও তার স্বজনেরা। এ নিয়ে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের (২৮) সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়।

তবে জমিটি বিক্রির ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের আপত্তি ছিল, কারা বিক্রিতে বাধা দিচ্ছিলেন এবং বিরোধের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্রেতা আসার পরই পরিস্থিতির অবনতি
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি কেনার আগ্রহী দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। জমি নিয়ে কথা বলার জন্য ডেকে আনা হয় জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে।

জসিম সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষের লোকজন জমি বিক্রিতে বাধা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জসিমের মাথায় আঘাত করা হয়।

ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জাহাঙ্গীর। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকেও মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন দুই ভাইকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ পরিবারের
জাহাঙ্গীরের চাচা সুন্দর আলী এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, হামলার জন্য আগে থেকেই দা ও লাঠি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মামুন, মাহমুদ ও ময়নুলের সঙ্গে তাদের ভাগনে সামি ও ভগ্নিপতি খয়েরও হামলায় অংশ নেন।

তবে হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র প্রস্তুত রাখা এবং কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।

একজন আটক, বাকি অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ
ঘটনার পর নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নুল হককে আটক করেছে কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানিয়েছেন, অন্য অভিযুক্তদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় এখন কয়েকটি বিষয় তদন্তের দাবি রাখে, জমি বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের প্রকৃত কারণ কী ছিল, আলোচনার জন্য জসিমকে ডাকার পর কী পরিস্থিতিতে হামলা শুরু হয়, হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং পরিবারের করা পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধে একজনের মৃত্যু এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *