সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

শেনজেন ভিসায় সুইডেন দূতাবাসের ক্ষমতা হস্তান্তর, বাংলাদেশিদের আবেদন প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন

বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন এনেছে সুইডেন। ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাস আর স্বল্পমেয়াদি শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে না। এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সিকে। নতুন এই ব্যবস্থার মধ্যে আবেদনকারী ও স্পন্সরদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য, আমন্ত্রণপত্র, আপিল কিংবা নির্দিষ্ট আবেদন নিয়ে যোগাযোগের ঠিকানাও পরিবর্তিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করেছে ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাস। দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া বার্তায় জানানো হয়, তারা আর শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করছে না। ফলে ভিসা, আমন্ত্রণপত্র, আপিল ও আবেদনসংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের জন্য সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে পরিবর্তন
দূতাবাসের সর্বশেষ বার্তার আগে গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত এক ঘোষণায় নতুন ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশে জমা দেওয়া শেনজেন ভিসার আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত আর ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস নেবে না। সব আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সি।

অর্থাৎ, আবেদনকারীর নথিপত্র ঢাকায় জমা হলেও সেগুলো মূল্যায়ন এবং ভিসা দেওয়া বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সুইডেনে।

বাংলাদেশ থেকে কি আবেদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
দূতাবাসের ঘোষণায় অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার আবেদন করার সুযোগ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।

সুইডেনের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আগের মতোই ঢাকায় ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বহাল রয়েছে।

অর্থাৎ, আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিএফএস গ্লোবালের ভূমিকা থাকছে আগের মতোই। পরিবর্তন এসেছে মূলত আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে।

কোন বিষয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন?
দূতাবাসের নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারী ও স্পন্সরদের জন্য যোগাযোগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। শেনজেন ভিসা, আমন্ত্রণপত্র, আপিল, নির্দিষ্ট আবেদনসংক্রান্ত জিজ্ঞাসা কিংবা এ-সম্পর্কিত অন্য কোনো বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে দূতাবাস জানিয়েছে, শেনজেন ভিসা নিয়ে এখন আর নির্দেশনা, তথ্য কিংবা সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন তাদের নেই।

ফলে আবেদনকারীদের পুরোনো যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ বহাল থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব এখন সুইডেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

সুইডিশ দূতাবাসের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে শেনজেন ভিসার আবেদন বন্ধ হয়নি; বরং আবেদন মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশাসনিক দায়িত্ব স্থানান্তরিত হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার জায়গা এবং ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃপক্ষ যে এক নয়, নতুন ব্যবস্থায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *