জীবিকার সন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই যুবক। একজন দেশটিতে ছিলেন পাঁচ বছর ধরে, অন্যজনের প্রবাসজীবন মাত্র দুই বছরের। কিন্তু পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়েছে তাদের প্রবাসের পথচলা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের দুই বাংলাদেশি। বর্তমানে তাদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বায়েজিদ রায়হান (২৭) এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সাইফুদ্দিন সিকদার মহসিন (৪৯)।
পুলিশ ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই দুর্ঘটনার একটি ঘটে ফুজাইরাহ-খোরফাক্কান সড়কে, অন্যটি শারজার একটি শিল্প এলাকায়।
ডেলিভারির কাজে গিয়ে প্রাণ গেল বায়েজিদের
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ফুজাইরাহ-খোরফাক্কান সড়কের আল ফৌজ এলাকায় পণ্য সরবরাহের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বায়েজিদ রায়হান। এ সময় তার চালানো ডেলিভারি মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জীবিকার সন্ধানে পাঁচ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন বায়েজিদ। সেখানে ডেলিভারির কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই শেষ হয় তাঁর জীবন।
কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার শিকার মহসিন
বায়েজিদের মৃত্যুর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শারজার আল খোয়াজামিয়া শিল্প এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাইফুদ্দিন সিকদার মহসিন।
পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি লরি এসে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মহসিন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আল কাসিমি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহসিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই রেজাউল করিম সিকদার। জীবিকার তাগিদে মাত্র দুই বছর আগে আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নে।
দেশে ফেরার অপেক্ষায় দুই প্রবাসীর মরদেহ
দুটি দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বর্তমানে বায়েজিদ ও মহসিনের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। পুলিশি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পাশাপাশি দূতাবাসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
প্রবাসে কর্মজীবনের কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম এই সদস্যদের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের অপেক্ষা এখন মরদেহ দেশে ফেরার।








