অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যবহৃত পথগুলোয় (রুট) গত বছর প্রায় ৮ হাজার মানুষ হয় নিহত, নয়তো নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, এর মধ্যে ইউরোপ অভিমুখী সমুদ্রপথ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই ‘অদৃশ্য নৌযান ডুবে যাওয়ার’ ঘটনায় হারিয়ে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি একথা জানায়।
এ বিষয়ে আইওএমের মানবিক সহায়তা বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোইতা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ পরিসংখ্যান এসব মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করছে।’
প্রতিবেদনে আইওএম জানিয়েছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যবহৃত পথগুলোয় গত বছর ৭ হাজার ৯০৪ জনের নিহত কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর জাতিসংঘের কাছে এসেছে; যদিও ২০২৪ সালে এ সংখ্যাটি ছিল ৯ হাজার ১৯৭। ইতিহাসে কোনো এক বছরে এতজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
এতে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় কমে আসার বড় কারণ, সহায়তা কমায় ১ হাজার ৫০০টির মতো সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব পথে ২০১৪ সাল থেকে নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা সব মিলিয়ে ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইওএম আরও জানিয়েছে, প্রতি ১০টি মৃত্যু বা নিখোঁজের মধ্যে ৪টির বেশি ঘটেছে ইউরোপ অভিমুখী সমুদ্রপথে।
ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন সার্বিকভাবে কমলেও তাঁদের যাতায়াতের পথ ও উৎস দেশ বদলে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে আইওএম। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক আর নীতিগত পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল বেড়েছে। বাংলাদেশিরা ইউরোপে সবচেয়ে বড় অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে উঠে এসেছেন। বিপরীতে সিরিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল কমে এসেছে।
‘অদৃশ্য নৌযান ডুবে যাওয়ার’ ঘটনাগুলোয় অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীবোঝাই আস্ত নৌযান সমুদ্রে ডুবে গেছে কিংবা চিরতরে গায়েব হয়ে গেছে। পরে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘নানামুখী সংঘাত, জলবায়ুগত চাপ এবং নীতি পরিবর্তনের কারণে পথ হয়তো বদলে যাচ্ছে, কিন্তু ঝুঁকিগুলো এখনো খুবই বাস্তব।’
‘এসব সংখ্যার পেছনে রয়েছে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া মানুষ এবং এমন সব পরিবার, যারা এমন খবরের অপেক্ষায় থাকে, যেটা হয়তো আর কখনোই আসবে না,’ বলেন অ্যামি পোপ।








