বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সবশেষ

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত অন্তত ৩১

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জনের বেশি মানুষ।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলাগুলো মূলত টাইর ও মারজাইউন জেলার বেসামরিক জনপদকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্জ আল-শেমালি, কাওসারিয়াত আল-রুজ, হাব্বুশ, মারাকেহ, সেলা, বুর্জ রাহাল, স্রিফা, আস-সাওয়ানা এবং কাবরিখা।

লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও স্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটির রাজনৈতিক ও প্রতিরোধ ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবেই জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বুর্জ শেমালিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। একই এলাকায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও ছয় নারী থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে কাওথারিয়াত আল-রুজ এলাকায় চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন এবং আহত হয়েছেন ছয়জন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হাব্বুশ এলাকায় চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া সেখানে আহত হয়েছেন ১০ জন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু ও তিন নারী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মারাকেহ এলাকায় হামলায় ছয়জন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া সেলা এলাকায় দুইজন নিহত ও আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর পাশাপাশি টাইর জেলার বুর্জ রাহাল, স্রিফা এবং আস-সাওয়ানা এলাকায়ও একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একইভাবে মারজাইউন জেলার কাবরিখা এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

লেবাননের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা ছিল ইচ্ছাকৃত। তাদের অভিযোগ, প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কারণেই দক্ষিণ লেবাননের জনগণের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে ইসরাইল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *