শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সবশেষ

সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পুশইনের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অন্তত ১০টি পৃথক পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। একই এলাকায় সামন্তা সীমান্তে বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে ওই উদ্যোগ সফল হয়নি।

যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তেও কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে জড়ো করা হয়েছিল বলে জানায় বিজিবি। সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় এলাকায় প্রায় ১০ জনকে একত্রিত করে রাখার তথ্য পেয়ে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। ফলে সম্ভাব্য পুশইন কার্যক্রম আর এগোয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিপরীতে অবস্থিত কয়েকটি হোল্ডিং সেন্টারে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশইনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তসংলগ্ন ভারতের মালদা জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পেয়েছে বিজিবি। সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কায় ওই এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক দুই ব্যক্তিকে যাচাই করে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। সীমান্তের একটি অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, প্রচলিত বিধান ও দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতা উপেক্ষা করে কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজিবি বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *