রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৭ জুন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। শুনানিকালে মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি আসামিদের সামনে পড়ে শোনান বিচারক এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চান।
শুনানির সময় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নির্বিকার দেখা গেলেও স্বপ্না বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। আত্মপক্ষ সমর্থন পর্ব শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পরদিন দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলাটির বিচারকাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২ জুন একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে ট্রাইব্যুনাল। রামিসার বাবা-মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় স্বপ্না বেগম কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা।
একপর্যায়ে আসামিদের বাসার সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দরজায় বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিশুটির মাথা পাওয়া যায় বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতিতে।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না বেগমকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর ২০ মে আদালতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এখন মামলার সব কার্যক্রম শেষ হওয়ায় আগামী ৭ জুন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিহত শিশুটির পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।








