নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই নেতার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূইয়া দাবি করেছেন, অনুষ্ঠান শেষে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে অকিল উদ্দিন ভূইয়া ও মশিউর রহমান রনির মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। তার হস্তক্ষেপে তখনকার মতো পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে অকিল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে মশিউর রহমান রনি তাকে গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন, এমন প্রশ্ন করলে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে দলীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায় বলে তিনি জানান। তার দাবি, অনুষ্ঠান শেষে তিনি জেলা পরিষদের সামনে নামাজ আদায়ের জন্য স্থান খুঁজছিলেন, এমন সময় রনির অনুসারীরা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, হামলার বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে উত্তেজনা এবং পরে হামলার অভিযোগকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন অনেকে।








