বাংলাদেশের আলোচিত হাদি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আইনজীবী রিংকি সিং চট্টোপাধ্যায় এ অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।
গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশে আলোচিত হাদি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। যদিও সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ছিল বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বক্তৃতায় মমতা দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, চাইলে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেন, তবে তা করলে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। দেশের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করছেন না বলেও উল্লেখ করেন।
মমতার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক আলোচিত খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে আটক করে। এ ঘটনায় তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, অতীতে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু বিষয় তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি হোক, তা তিনি চান না বলেও মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার পাশাপাশি দলীয় আদর্শ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙার ষড়যন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগৃহীত নানা তথ্য তার জানা আছে, তবে সবকিছু প্রকাশ করার ইচ্ছা তার নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর পল্টন এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে চলতি বছরের ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে মামলার দুই অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।








