রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সবশেষ

শান্তি রূপরেখা স্বাক্ষরের পরই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা; চুক্তি মানতে অস্বীকৃতি হিজবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে চুক্তিটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, হামলার স্থানটি ইসরায়েল ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরের এলাকা। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, স্থলবাহিনী মোতায়েন না থাকায় ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যাকে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এদিকে একই দিনে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া রূপরেখা চুক্তিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর আলোকে প্রথমে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

নাঈম কাসেম আরও সতর্ক করেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তার ভাষায়, এমন উদ্যোগ লেবাননের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং দেশটিকে ইসরায়েলের প্রভাবের অধীনে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনার পর গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এই রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি প্রকাশের পর এটিই ছিল বিষয়টি নিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতাকে দুই দেশের সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরায়েলের উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন স্বীকার করেছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সমঝোতা স্পষ্টভাবে বার্তা দেয় যে, ভবিষ্যৎ লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর কোনো ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা থাকবে না।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। সেখানে বলা হয়, ধাপে ধাপে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে সেটি কার্যকর হবে তখনই, যখন অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর, বিশেষ করে হিজবুল্লাহর, নিরস্ত্রীকরণ যাচাই করে নিশ্চিত করা যাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল। প্রথম পর্যায়ে দুটি ‘পাইলট জোনে’ লেবানিজ সেনাবাহিনী পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। এরপর সেখানে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *