দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘ ১৪ বছর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ নিজের ভাই আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার এক প্রবাসী। তার দাবি, দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, পাঠানো অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলা হলেও সেসবের কোনো মালিকানা কিংবা অর্থের হিসাব তাকে দেওয়া হয়নি।
বুধবার (১ জুলাই) ফেনী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী আবুল মনছুর আহাদ। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের খায়েজ আহমদের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে আবুল মনছুর আহাদ জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে যে আয় করেছেন, তার প্রায় সবটাই দেশে পাঠিয়েছেন। পরিবারের প্রতি আস্থা রেখে মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদের কাছে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। দেশে ফিরে তার জন্য একটি ফ্ল্যাট, জমি এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে একটি হাইস গাড়ি কেনা হবে, এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
তার অভিযোগ, ২০২৩ সালে দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, পাঠানো অর্থ দিয়ে তার ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি ওষুধের দোকান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু এসব সম্পদে তাকে কোনো অংশীদার করা হয়নি এবং পাঠানো অর্থেরও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। বারবার হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল মনছুর আহাদের ভাষ্য, তিনি তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এনএ কনস্ট্রাকশনের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকা পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার আগে নিজের হাতে লেখা অর্থের হিসাবসংবলিত একটি চিরকুট ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে রেখে যান। দেশে ফিরে সেই হিসাবও আর ফেরত পাননি। উল্টো পাওনা অর্থ ও হিসাব চাইতে গেলে তাকে পৈতৃক বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল মনছুর আহাদ বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রবাসে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাটিয়েছেন। অথচ এখন নিজের কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাইতেই অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার একমাত্র দাবি, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ যেন তিনি ফেরত পান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর আলম ফরহাদের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।








