হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার আরও কঠোর অবস্থান জানাল ইরান। তেহরানের দাবি, বিশ্বের কোনো শক্তিই কৌশলগত এই নৌপথের ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। একই সঙ্গে হরমুজে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ‘চূড়ান্ত রেড লাইন’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানা চার দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মধ্যেই ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়াতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানেরই অংশ এবং এর নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ছাড়বে না তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি ইরানেরই অংশ। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে এই প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ৪০ দিনের যুদ্ধে এটি একটি মূল্যবান অর্জন।”
অন্যদিকে, গত কয়েক দিন ধরে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরান যাতে এ নৌপথ ব্যবহার করে কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে বিকল্প রুট ব্যবহার করা কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগও তোলে যুক্তরাষ্ট্র।
এর পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। এসব হামলার আওতায় বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম যুলফাগারি এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ অঞ্চলের সব অবকাঠামো এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবে, যাতে সেগুলোর কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট না থাকে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না ইরান। তার ভাষায়, “আমেরিকা একটি বিদেশি ও আঞ্চলিক বাইরের দেশ। কোনো অবস্থাতেই এবং কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালিতে তাদের হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। এটি ইরানের চূড়ান্ত রেড লাইন।”








