শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদির দাম্পত্যজীবন বরাবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ভিন্ন ধর্মের দুই তারকার বিয়ে যেমন সাড়া ফেলেছিল, তেমনি তাঁদের সন্তানরা কোন ধর্মীয় পরিবেশে বড় হয়েছেন, সেটিও ছিল অনেকের আগ্রহের বিষয়।
এবার সেই পারিবারিক জীবনের অজানা কিছু অধ্যায় সামনে এনেছেন দম্পতির বড় মেয়ে সাবা আলি খান পতৌদি। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের শৈশব ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মুসলিম বাবা মনসুর আলি খানের পাশাপাশি সন্তানদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া মা শর্মিলা ঠাকুর।
সাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিষয়ে সন্তানদের যেন বিভ্রান্তি তৈরি না হয় এবং তাদের একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি থাকে, সে কারণেই ইসলাম সম্পর্কে তাদের শেখাতেন শর্মিলা।
সব ধর্মের প্রতিই ছিল শ্রদ্ধা
সাবা জানান, ইসলাম ধর্মের সঙ্গে তার মায়ের গভীর আত্মিক সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে অন্য ধর্মের প্রতিও তাঁর শ্রদ্ধা ছিল।
পতৌদি পরিবারের সন্তানদের ওপর কোনো ধর্ম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও জানান সাবা। বরং ছোটবেলা থেকেই তারা নানা ধর্মের উৎসবে অংশ নিয়েছেন।
পরিবারে বড়দিন, দীপাবলি ও হোলির মতো উৎসবও উদযাপন করা হতো। অর্থাৎ ধর্মীয় বৈচিত্র্য ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের স্বাভাবিক অংশ।
তবে উৎসব পালন করলেও তারা কখনো মন্দিরে যেতেন না বা হিন্দু ধর্মীয় আচার অনুসরণ করতেন না বলে জানিয়েছেন সাবা।
ভাই-বোনের বিয়েতেও ধর্মের বাধা ছিল না
সাবার দুই ভাই-বোনই পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষকে বিয়ে করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের পরিবারে কোনো ধর্মকে কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়টি ছিল না।
ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে পারিবারিক পরিবেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে তার কথায় উঠে এসেছে।
ছয় দশক আগের সেই আলোচিত বিয়ে
১৯৬৮ সালে নবাব মনসুর আলি খান পতৌদিকে বিয়ে করেন শর্মিলা ঠাকুর। দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের এই বিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি বিয়েকে কেন্দ্র করে চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাদের।
বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন শর্মিলা ঠাকুর। তার নতুন নাম রাখা হয় আয়েশা।
প্রায় ছয় দশক পর সেই বহুল আলোচিত পরিবারের সন্তানদের ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা জানালেন সাবা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে এমন এক পারিবারিক চিত্র, যেখানে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা যেমন ছিল, তেমনি বিভিন্ন ধর্মের উৎসব ও বিশ্বাসের প্রতিও ছিল সম্মান।








