বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

‘রাজনৈতিক ঐকমত্য করে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের কথা ভাবতে হবে’

জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার একসময় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এখন নির্বাচিত সরকারের এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে। একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সংগঠনটির নিষিদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ না হলে দেশে উগ্রবাদ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক। তার মতে, এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক বলেন, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তার দাবি, জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনটির বিরুদ্ধে অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম ক্যাডার তৈরির অভিযোগও করেন।

জামায়াত-শিবিরের বর্তমান ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-শিবির নিজেদের মজলুম সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করলেও গত ছয় মাসে তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। উগ্রবাদী এই গোষ্ঠীকে শুরুতেই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন, না হলে তারা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।

নুরুল হক জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগকে একই ধরনের ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় না থেকেও যে ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে তাদের অতীতের ‘রগকাটা’, ধর্ষণ ও দখলদারত্বের অভিযোগগুলো আবারও সামনে এসেছে।

বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জামায়াত রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়া এবং সেখানে দলীয় লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন নুরুল হক। তার মতে, জামায়াত মূলত ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা চায় এবং তাদের এ সুযোগ দেওয়া হলে তা দেশের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সম্প্রতি ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক। কোনো বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন কিংবা কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

আমির হামজার বক্তব্যের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিরও সমালোচনা করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি। তার দাবি, এর মধ্য দিয়ে জামায়াত ওই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক বলেন, এসব ঘটনায় দলটির নৈতিক অবস্থানের অবনতি স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দিলে তা প্রহসনে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নুরুল হকের অভিযোগ, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *