পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের এক শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মারুফ মুন্সির (২২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকায় থাকা মারুফকে আটক করে দশমিনা থানা-পুলিশ। পরে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম। শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে।
মারুফ দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
পুলিশের কাছে মারুফ দাবি করেছেন, সন্তান বিক্রি করেননি তিনি। স্থানীয়ভাবে হওয়া ধারদেনা পরিশোধের জন্য সহকর্মী ইমরান হোসেন ও তার শ্বশুর মহিবুলের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন। শিশুটিকে তাদের কাছে লালন-পালনের জন্য দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার।
তবে মারুফের পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে এক লাখ টাকায় দেওয়ার কথা ঠিক হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর তাদের দেড় বছরের সন্তানটি মারুফের মা মাহফুজা বেগমের কাছে থাকত।
মাহফুজা বেগম জানান, শনিবার সকালে মারুফ শিশুটিকে ভালো পোশাক পরিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। সন্ধ্যার পরও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল শিশুটিকে টাকার বিনিময়ে নিজের কাছে নিয়েছেন। মহিবুলের কোনো ছেলেসন্তান নেই।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির জন্য এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রথম ধাপে ৫২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ওই টাকা নেওয়ার পর শিশুটিকে লিখিতভাবে তাদের কাছে দেওয়া হয়।
মাহফুজা বেগম আরও অভিযোগ করেন, পাওয়া টাকা এবং নিজের পুরোনো আইফোনের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে মারুফ নতুন আইফোন কেনেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে বিষয়টি জানান।
অন্যদিকে মারুফের বক্তব্য, সন্তানকে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে তিনি শিশুটিকে দেননি। ধারদেনা শোধের জন্য ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মারুফকে আটক করে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে বলে জানান ওসি আতিকুল ইসলাম।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








