সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ইরান থেকে আসা ড্রোন ঠেকানোর দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমার দিকে ইরান থেকে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে আবুধাবি।

সোমবার এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির জলসীমায় একটি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) শনাক্ত করা হয়। সেটি ইরান থেকে এসে আমিরাতের জলসীমার দিকে এগিয়ে আসছিল। পরে দেশটির বিমানবাহিনী ড্রোনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলার পরই ড্রোন শনাক্ত
আমিরাতের জলসীমায় ড্রোন শনাক্তের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে।

রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইরানে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করা হয়েছে।

ওই হামলার পর ইরানের সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে দাবি করে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এরপর ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করে। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরান থেকে আসা ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করার তথ্য প্রকাশ করা হলো।

হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
সামরিক উত্তেজনার প্রভাব শুধু আকাশসীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে।

জাহাজ কোম্পানিগুলো হামলার আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বাড়ছে চাপ
একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমা ও জলসীমায় নিরাপত্তা সতর্কতা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইরান থেকে ড্রোন আসার দাবি এবং সেটি প্রতিহত করার তথ্য এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হয়নি।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া দেখাচ্ছে, সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে সংঘাতের পরিধি ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিও এখন নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *