সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, স্থানীয় সরকার আইনে কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বজনীন পদে থাকলে তার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিষয়টি রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১১.১৭(খ) ধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরি কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে থাকার বিষয়ে বিধান রয়েছে। সেখানে বেতন, ভাতা ও সম্মানিসহ আর্থিক সুবিধাকে লাভজনক পদের আওতায় ধরা হয়েছে।

এই দুই ধরনের বিধানের মধ্যে সমন্বয় করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটিই এখন নির্ধারণের বিষয় বলে জানান মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে ইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে ইসি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।

‘শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে জনপ্রতিনিধি হওয়া যাবে না, এমন নয়’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করার কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান বা সংশ্লিষ্ট আইনেও এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি।

তার মতে, একজন মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। সমাজসেবায় তার ভূমিকা থাকতে পারে এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার সক্ষমতাও থাকতে পারে। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত্তিতে কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বাদ দেওয়া মানবাধিকার ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

এই কারণেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়নি বলে জানান মীর শাহে আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *