সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

‘ফিরে কল দেব’, স্ত্রীকে দেয়া সেই কথা আর রাখা হলো না কাতারপ্রবাসী আজমের

স্ত্রীকে রাতে কাজে যাওয়ার কথা জানিয়ে পরে ফোন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাতারপ্রবাসী আজম মিয়া (৩৫)। কিন্তু সেই ফোন আর করেননি তিনি। এর বদলে রোববার সকালে স্বজনদের কাছ থেকে স্ত্রী সুলতানা বেগম জানতে পারেন, বহুতল ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার স্বামী।

আজমের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কাতারে পাড়ি জমান তিনি। দোহায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

স্বজনেরা জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে আজমকে ইমোতে কল করেন তার স্ত্রী। কথার একপর্যায়ে আজম জানান, কাতারে দিনের প্রচণ্ড গরমের কারণে তাদের রাতে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি তখন কাজে যাচ্ছিলেন। কাজ শেষে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে আবার কথা বলবেন বলেও জানান।

কিন্তু সেই প্রতিশ্রুত ফোন আর আসেনি।

রোববার সকাল আটটার দিকে কাতারপ্রবাসী কয়েকজন আত্মীয় ফোন করে সুলতানা বেগমকে দুর্ঘটনার খবর দেন। তারা জানান, বহুতল ভবনে কাজ করার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান আজম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

পরে পুলিশ আজমের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আজমের বড় ভাই মাতাব মিয়া জানান, তারা চার ভাই। একই বাড়িতে আলাদা সংসারে থাকেন সবাই। আজমের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার উপার্জনেই চলত পুরো পরিবার।

প্রায় দুই বছর আগে তিন মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন আজম। পরে আবার কাতারে ফিরে যান। তার মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুশন মিয়া আজমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়ে রোববার সকালে তিনি আজমের বাড়িতে যান।

তিনি বলেন, আজমের মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। তার আয়ে চলা সংসারটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *