বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে, ছোট অঙ্কে চাপ বেশি

বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট অঙ্কের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ খরচ হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় ব্যয় বেড়েছে দশমিক ০৪ শতাংশ।

১ হাজার ডলারে খরচ বেড়েছে ৪০ সেন্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিদেশ থেকে ১ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১৭ দশমিক ৮০ ডলার। এপ্রিল-জুনে একই পরিমাণ অর্থ পাঠাতে খরচ হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ ডলার।

অর্থাৎ তিন মাসে ১ হাজার ডলার পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে দশমিক ৪০ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সেবামূল্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর আরোপিত ফি ও কর এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামায় রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ছে।

কম টাকা পাঠালে খরচের হার বেশি
রেমিট্যান্সের পরিমাণ যত কম, এর ওপর খরচের হার তত বেশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে গড় খরচ ছিল ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এপ্রিল-জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশে।

অন্যদিকে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠানোর খরচ একই সময়ে দশমিক ৯৬ শতাংশ থেকে সামান্য কমে দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে। ৫০০ ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে।

অর্থাৎ তুলনামূলক বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচের হার কম থাকলেও ছোট অঙ্কের অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের বেশি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বেড়েছে খরচ
দেশভেদেও রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশ থেকে খরচ কমলেও বেশির ভাগ দেশেই তা বেড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ জানুয়ারি-মার্চে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে এপ্রিল-জুনে বেড়ে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ১২ শতাংশ।

একই সময়ে কাতার থেকে খরচ ১ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৮ শতাংশ, ইতালি থেকে ১ দশমিক ১৪ থেকে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ, ওমান থেকে ১ দশমিক ৩৯ থেকে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১ দশমিক ১৮ থেকে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে।

তবে সব দেশেই খরচ বাড়েনি।

সৌদি, কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ব্যয়
সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ জানুয়ারি-মার্চে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে এপ্রিল-জুনে কমে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে।

কুয়েত থেকে খরচ ১ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কমেছে সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ। জানুয়ারি-মার্চে এ হার ছিল ১ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা এপ্রিল-জুনে কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৯৮ শতাংশে।

তবে এসব দেশের বাইরে আরও অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসে এবং সামগ্রিকভাবে বেশির ভাগ দেশ থেকেই পাঠানোর খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

খরচ বাড়লে হুন্ডির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় বাড়তে থাকলে প্রবাসীদের একটি অংশ হুন্ডির দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আগেভাগেই উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া বিদেশে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন দেশে দেশীয় ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজের কার্যক্রম বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর খরচ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে দেশের ভেতরে রেমিট্যান্স বিতরণের ব্যয় কিছুটা কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *